করোনা ও ভারত : গণ টিকাকরণের দাবি নিয়ে সংশয় জরুরি

এই অতিমারীর সময়ে কম বেশি সকলেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। অনেকে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, অনেকেই প্রিয়জনকে হারানোর আশংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের কাছেই টিকা একমাত্র ভরসার জায়গা। মনের এই অবস্থায় নিরপেক্ষ যুক্তি দিয়ে আলোচনা করা শক্ত, পড়তেও ভাল লাগার কথা নয় বিশেষত যেখানে আরও ভাল কোনও সমাধান সুনির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই। মানুষের যাপন আবেগবর্জিত নয় তাই এই মানসিক অবস্থাকে সম্মান করেই নিচের আলোচনা বিপর্যস্ত মন নিয়ে না পড়াই ভাল হবে।

শাসক নির্বাচনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি : একটি ফ্যাসিবাদী প্রবণতা

শাসক নির্বাচনের দায় আমি নিচ্ছি না। আমি তাকে ভোট দেব, আবার সে-ই আমার ভোটে জিতে এসে আমার ওপর ছড়ি ঘোরাবে, আমার গ্যাসের দাম বাড়াবে, আমার ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা আটকে দেবে, চাকরি পার্মানেন্ট করার দাবিতে অবস্থান করতে গেলে আমার ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেবে, আমার পড়াশুনার খরচ বাড়িয়ে দেবে, আমার যাতায়াতের খরচ বাড়িয়ে দেবে। অথবা এমএলএ এমপি হয়ে যাবার পর যে পার্টি বেশি রেট দিচ্ছে তার দিকে চলে যাবে। তখন আমার অপরাধবোধ হবে। ভাবব, ঈসসসস! কী মরতে যে এদের/একে ভোট দিয়েছিলাম। তার চেয়ে যে/যারা হারবে নিশ্চিত, তাদের ভোট দেব। আপনি আপনার কাজ করুন। আমায় আমার কাজ করতে দিন। রাজনীতি দশজনকে নিয়ে। ভোট দেওয়া ব্যক্তিগত ব্যাপার।

একটি অতিমারি (?), টিকা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য

টিকা ওষুধ নয় যা অসুস্থ মানুষকে সারিয়ে তোলার জন্য দেওয়া হয়, টিকা সুস্থ মানুষকে দেওয়া হয় দ্রুত হার্ড ইমিউনিটি তৈরির জন্য। যদি সাধারণ ভাবে হার্ড ইমিউনিটি থেকেই থাকে তবে নানা তথ্য-ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি এতগুলি টিকাকে এমনকি গাইডলাইন বদলেও ছাড়পত্র কেন দেওয়া হল?

দিল্লি অবরোধ থেকে কৃষকদের “ভারত বনধ্‌” : কীভাবে নতুন কৃষি আইন পাঞ্জাব হরিয়ানা তথা দেশের সম্পন্ন কৃষক সম্প্রদায়ের ধ্বংস ডেকে আনছে?

কিন্তু আমাদের পশ্চিমবঙ্গে চাষিকে শোষণ করে ফড়ে, দালাল, ব্যবসায়ী, মাণ্ডির কর্মচারিরা। নতুন আইনে তাদের জায়গায় কোম্পানি এলে কি চাষির শোষণের মাত্রা একটু কমবে না?

না। বাড়বে। কারণ ফড়ে, দালাল, ব্যবসায়ী, হিমঘর মালিক, মিলমালিক-এর যা টাকার খাঁই, তার চেয়ে কোম্পানির টাকার খাঁই অনেক বেশি।

আমাদের দেশে করোনার গণ টীকার কি কোনো প্রয়োজন আছে?

করোনার আতঙ্ক টিঁকে থাকা ভারতবর্ষের পুঁজিপতিদের এবং মন্দাবিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে বিপাকে পড়া মোদি সরকারের আজ সবিশেষ প্রয়োজন। ভ্যাক্সিন্যাশনালিজমের সমালোচনার আড়াল থেকে গোঁফে তা দিচ্ছে ভ্যাক্সিক্যাপিটালিজম।

করোনা ও পরিযায়ী শ্রমিক : মিডিয়ার আন্তরিকতা, সরকারের নিষ্ঠুরতা ও বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ইতিহাসে লেখা থাকবে

৩১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কথায় সন্তুষ্ট হলেন। এবং ভারত সরকারের পক্ষে রায় দিলেন। ফেক নিউজ আটকাবার রাস্তায় শ্রমিক প্রকৃত অর্থেই ফেক হয়ে রইল। ২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র দপ্তর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ সহ সমস্ত রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ পাঠালো, যেন শ্রমিকদের নিয়ে একটিও ফেক নিউজ প্রকাশিত না হতে পারে।

করোনা ও অর্থনীতি : করতে পারি, কিন্তু কেন করব

আমাদের প্রস্তাব কখনোই অর্থনীতির ভালোর দিক ভেবে হতে পারে না। বরং আমাদের ভাবা উচিত ব্যক্তি শ্রমিক/বেকারের স্বার্থ। যে ব্যক্তি শ্রমিক/বেকার আমি নিজেও। ব্যক্তি শ্রমিক/বেকারের স্বার্থের চেয়ে পৃথক স্বার্থ আমাদের থাকা উচিত না। আমরা কীভাবে এই বিপদের মোলাকাৎ ও মোকাবিলা করছি, সেই অভিজ্ঞতাই তৈরি করবে করোনা-উত্তর আমাদের এখানকার উত্তর-পুঁজিবাদে পদার্পনের পন্থা।

লকডাউন : উপসাগরে তেলের রিগের ক্যাটারিং ডিভিশনে কাজ করা ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকের নিজের কথা

দিশাহারা ভাবে পেশা বদলাতে বদলাতে হাজির হওয়া মুম্বাই শহরে। জাহাজে চাকরি করবো। বাংলার রানাঘাট নদীয়া অঞ্চলে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন, দালাল চক্রের হাতে বহু মানুষেরই টাকা পয়সা খোয়া গেছে এই জাহাজে চাকরির আশায়। জাহাজে চাকরি আশা ছেড়ে জয়েন করলাম অফশোর-এ। অফশোর শব্দ টা কি জানতাম না আমি ও প্রথমে। গোদা বাংলা করলে ‘শোর’ অর্থ সমুদ্র সৈকত, অফশোর মানে সমুদ্রের মাঝখানে কাজ।

করোনা ও সুরাতের হীরের গয়না

হিসেবটা এরকম, ন্যুনতম পরিযায়ী শ্রমিক দিয়ে ১২ ঘন্টা খাটিয়ে বিল্ডিং-গুলো বানিয়ে নেওয়া। পালিশ কাটিং আপাততঃ বন্ধ থাক। হীরে বুর্জোয়ারা, দেশে যাতে আর কাঁচা হীরে না ঢোকে পালিশের জন্য, তার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে তদ্বির করে ফেলেছে। আর স্টিমুলাসের দাবিও করা হয়ে গেছে, এই বারো ঘন্টা খাটানো হচ্ছে যাদের জোর করে ধরে রেখে, তাদের মাইনে বাবদ।