হাতির পথ ও তা আমাদের হাতিয়ে নেওয়া : তথ্য ও পরিসংখ্যানে : উত্তরবঙ্গ

রামজীবন ভৌমিক#

ছবি : সম্রাট সরকার#

“হাতিকে স্যালুট করতে গিয়ে সিদ্দিকুল্লা রহমানের মৃত্যু”- দৈনিক সংবাদ পত্রে গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকের এই সংবাদটির কথা মনে আছে?  ইন্টারনেটে তার টাটকা দৃশ্য? পড়ে দেখে মন বিষন্ন হয়ে আসেনি? আমাদের চলার বড় রাস্তা জুড়ে বসেছিল হাতি। নাকি উল্টোটা? হাতির চলার বড় রাস্তা হাতিয়ে নিয়ে আমরা আমাদের রাস্তা বানিয়েছিলাম?

 

আচ্ছা ঘটনাটাকে যদি এইভাবে দেখা যায়? – হাতি তার পূর্বপুরুষের চলাচলের পথ ফিরে পেতে মাঝে মাঝে অবরোধ, ধর্না দিয়ে বসে বিভিন্ন জাতীয় সড়কে, রেল লাইনে অথবা ফসলের ক্ষেতে। গরুমারা জাতীয় উদ্যান ফুঁড়ে বইয়ে দেওয়া ৩১ নং জাতীয় সড়কে মহাকাল ধামের কাছে এক বৃহৎ দাঁতাল বৃহষ্পতিবার (২৩/১১/২০১৭) বিকেল তিনটে থেকে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দাঁড়িয়ে ছিল।  তার দুপাশে ট্রাফিকের সারিসারি অবস্থান। এমনই এক সমাপতনে সিদ্দিকুল্লা রহমানের মৃত্যু।

 

সন্ধ্যা বা তার পর হাতির ভয়ে অতি দ্রুত জঙ্গলের জাতীয় সড়ক পার করতে গিয়ে মাঝে মাঝে যান দূর্ঘটনায় পরে। মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এই জাতীয় সড়কে লেগেই আছে। স্থানীয় বনবাসী মানুষ হাতিকে ‘মহাকাল বাবা’ সম্বোধনে স্মরণ করে। হ্যাঁ, প্রতি সম্বোধনে ডানহাত কপালে ঠেকিয়ে নমস্কার সহ। প্রকৃতি থেকে শত হস্ত দূরে থাকা শহরবাসীর কাছে হাতি এত শ্রদ্ধা বা ভয় কোনওটাই দাবি করতে পারে না। হাতি আমাদের কাছে মজা, এন্টারটেইনার মাত্র।

 

হাতি প্রায় প্রতিদিন আত্মসম্মান সহ নিজের বাসস্থান নিজের মতো করে ফিরে পেতে কোনও না কোনও বিক্ষোভ প্রতিবাদ করে। যেমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের চালের ঘর ভেঙ্গে দেওয়া, মুদি দোকান গুঁড়িয়ে আটা বা ডাল নষ্ট করা প্রভৃতি। বনবাসি মানুষের ঘরদোর তছনচ করে বেঘর করে দেওয়া নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সারা ভারতবর্ষের তুলনায় উত্তরবঙ্গে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

 

হাতির এরকম মেজাজ মর্জির কারন খুঁজতে গিয়ে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট ওফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘প্রোজেক্ট এলিফ্যান্ট’ (ইংল্যান্ডের এনজিও) ‘এলিফ্যান্ট ফ্যামিলি রাইট ওফ প্যাসেজ’ নামক একটি ৮০০ পৃষ্ঠার গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে। তাদের গবেষণায় হাতি চলাচলের পথ কেমন ছিল এখন কেমন হয়েছে তার বিবরণ আছে।

 

হাতিদের যাতায়াতের পথ বা করিডোর

গবেষণা থেকে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব কেন এমন রূপ পেল তার একতা স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে। হাতির দলগুলি সংসার পাতা, খাওয়া-দাওয়ার সামগ্রী যোগাড় করা, রাতে ঘুমানো, খেলতে যাওয়া বা চড়ে বেড়ানোর জন্য সারা বছর ৩০০ বর্গকিলোমিটার থেকে ৫০০ বর্গকিলোমমিটার অরণ্য জুড়ে এলাকা ঘরবাড়ি, উঠোন বা বাসস্থান হিসেবে মনে করে। শত শত বর্গকিলোমিটার বনানী ব্যাপ্ত উঠোনের নির্দ্দিষ্ট কতকগুলি পথ দিয়েই হাতির দল এ-ঘর ও-ঘর চলাচল করে। এই নির্দ্দিষ্ট গুটিকয়েক পথকেই বলে ‘এলিফ্যান্ট করিডোর’,  বা ‘হাতির চলাচলের পথ’। করিডোর বা হাতির চলাচলের পথগুলি বৃহৎ আয়তনের অরণ্যের সাপেক্ষে প্রস্থে এক কিলোমিটারের কম থেকে সর্ব্বোচ্চ তিন-চার কিলোমিটার হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম হাতি তার করিডোরগুলি জন্মগত অধিকারে এবং স্বভাবদলিলিকৃত মালিকানায় ব্যবহার করে বেঁচেবর্তে ছিল।

মানুষ পৃথিবীর স্বঘোষিত মহান জীব(?) এসে ঘোষণা করল ও সব ওমুক (কেন্দ্রীয়) সরকারের বা তমুক (রাজ্য) সরকারের। গাছের বাড়ি, হাতির বাসস্থানের মালিক রাজা বাদশা থেকে আজ কেন্দ্রীয় বনদপ্তর, রাজ্য বনদপ্তর বা রাজস্ব দপ্তর বলে ফরমান বেরল। একবার যা মানুষের তাতে আর কারো পাশাপাশি থাকার কোনও অধিকার নেই। ক্রমোচ্চবিন্যাস বা হায়ারার্কির ধারনায় বন্য জীব হয়ে গেল পশু অর্থাৎ নিকৃষ্ট। না আছে তার বেঁচে থাকার সভ্য অধিকার না থাকল তার ঘরদোর উঠোন নিয়ে সংসার পাতার পরিসরের ভাবনা। আগে মানুষ, পিছে মানুষ, মাঝে মানব-পদপৃষ্ট সব প্রাকৃতিক জীবকুল। এক রকমের প্রাকৃতিক জীব হিসেবে অপরাপর জীবকুলের সাথে পাশাপাশি থেকে মানুষ নিজের অস্তিত্বকে টিঁকিয়ে রাখবে – এটাই উন্নয়ন হওয়া কাম্য ছিল। কিন্তু এই বাস্তব ধারণা থেকে দূরে সরে জীবকুল ও তার ধারক প্রকৃতির ধ্বংসের নেশাই উন্নয়ন বলে মানুষ সদর্পে ঘোষণা করছে।

 

ভারতবর্ষ জুড়ে হাতিকে মানুষ কিভাবে উন্নয়নের পায়ে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে তার অনেক পরিসংখ্যান, গদ্য ছড়িয়ে আছে “ রাইট অফ প্যাসেজ” বা “একফালি পথের অধিকার” গবেষণাপত্রে। গবেষকরা জানাচ্ছেন ভারতবর্ষে ২০০৫ সালেই হাতির চলাচলের পথসংখ্যা ছিল ৮৮ টি কিন্তু ২০১৭ সালে ১৩ টি বেড়ে হয়েছে ১০১ টি। হস্তিযুথ তার একটি চলাচলের পথের জন্যে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আয়তনের অরণ্য ব্যবহার করে। যেমন দক্ষিণ ভারতে ১৪১০ বর্গকিলোমিটার প্রতি একটি করিডোর, উত্তরপূর্ব ভারতে ১৫৬৫ বর্গকিলোমিটার প্রতি একটি করিডোর, মধ্য ভারতে ৮৪০ বর্গকিমি প্রতি একটি করিডোর, উত্তরপশ্চিম ভারতে ৫০০ বর্গকিলোমিটার প্রতি একটি করিডোর। উত্তরবঙ্গে কত? পরে বলছি।

 

গবেষকদের মতে ভারতবর্ষে মোট ১০১ টি করিডোরের মধ্যে ২৮ টি  দক্ষিণ ভারতে, ২৩ টি উত্তরপূর্ব ভারতে, ২৫ টি মধ্য ভারতে এবং উত্তরপশ্চিম ভারতে ২১ টি করিডোর আছে। উত্তরবঙ্গে আছে হাতির চলাচলের নির্দ্দিষ্ট পথ। সম্পূর্ণ ভারতবর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে হাতির চলাফেরা করে সুস্থ জীবন যাপন করার জন্যে প্রতিদিন ৭০% করিডোর ব্যাবহার করার প্রয়োজন হয়। ২৫% পথ মাঝে মাঝে দরকার, ৫% হঠাৎ হঠাৎ।

হস্তিযূথ করিডোরের বিবর্তন

আমাদের দেশে হস্তিগোষ্ঠির বাসস্থানের উঠোন চিরে উন্নয়নের বিজয়রথ চলছে। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক, রেলপথ, চা বাগান, কৃষি জমি তৈরি, কারখানা তৈরি – এক কথায় যে যা চায়, তাই নির্বিঘ্নে ঘটিয়ে ফেলতে পারে। এভাবে গড় হিসাবে দেশের প্রতি তিনটি করিডোরের মধ্যে দু’টিতেই মানুষ চাষ-আবাদ শুরু করেছে। শতাংশের হিসেবে গড়ে ৬৯% করিডোর আটকে কৃষি উৎপাদন চলছে। মধ্য ভারতে ৯৬% করিডোর চাষের কবলে। রাজ্য বা জাতীয় সড়ক তৈরি করার সময় সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে তিনটি এলিফ্যান্ট করিডোরের মধ্যে দুটি করিডোর নষ্ঠ করেই সড়ক তৈরি করেছে। পাহাড়ি পথে রেল লাইন, ক্যানাল তৈরিতে ১১ শতাংশ করিডোর নষ্ট হয়েছে। খনিজ সম্পদ আহরণ, পাহাড়ের বোল্ডার উত্তোলনের জন্য ১২ শতাংশ করিডোর ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা গত এক দশকে প্রাকৃতিক বনজঙ্গলের ধরণ ধারণ দ্রুত বদলে দিচ্ছি। ফলে হাতির চলার পথে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে হাতিকে একরকম চোখ রাঙিয়ে বাধ্য করছে তাদের চলাচলের চিরাচরিত পথ ছেড়ে দিয়ে বিকল্প পথ খুঁজে নিতে।

 

গবেষকদের মতে, হাতিরা অত্যাচারিত হয়ে তাদের বহুল ব্যবহৃত সাতটি পথে যাওয়া আসা একেবারেই স্থগিত রেখেছে। বদলে ২০ টি নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে। চারপাশ দিয়ে উন্নয়ন ধেয়ে এসে এলফ্যান্ট করিডোর গুলির মুখ বোতলের ছিপির মতো বন্ধ করে দিয়েছে। ২০০৫ সালে ১ কিলোমিটার বা তার কম পরিসরের জন্য এলিফ্যান্ট করিডোর ছিল ৪৫.৫ শতাংশ যেটা ২০১৭ তে বেড়ে হয়েছে ৭৪ শতাংশ। ১ কিমি থেকে ৩ কিমি দৈর্ঘ্যের চলাচলের পথ গত এক  দশকে ১৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। ২০০৫ সালে শুধুই বনানী আশ্রিত এলিফ্যান্ট করিডোর ছিল চব্বিশ শতাংশ, এবছর মাত্র ১২.৯০ শতাংশ। গত ত্রিশ বছরে দ্রুত গতির রেলগাড়ি হাতি করিডোর জবরদখল করে হাতিযুথের দেহের উপর দিয়ে রেলগাড়ি চালিয়ে ২৬৬ টি হাতিকে পিষে মেরেছে।

উত্তরবঙ্গে হাতি ঘেটো

ভারতবর্ষের মধ্যে উত্তরবঙ্গে হাতি-মানুষ সম্মুখ সমরের অবস্থা খুবই উদ্‌বেগজনক। উত্তরবঙ্গে তিনটি জেলা, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে নয়টি ফরেস্ট ডিভিশনের মোট অরণ্য এলাকা ৩০৫১ বর্গকিলোমিটার। তার মধ্যে ২২০০ বর্গকিলোমিটার একালায় প্রায় ৩০০টি হাতি বাসস্থান গড়ে তুলছে। ভারতবর্ষের মোট হাতির এক শতাংশ আছে উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে। মেচি নদী থেকে ভূটান আসাম সীমান্তে সঙ্কোশ নদী অবধি বিস্তৃত অরণ্যে হাতি করিডোরের সংখ্যা ১৪টি। উত্তরপূর্ব ভারতের তুলনায় ভাবলে উত্তরবঙ্গে হাতি করিডোর থাকা উচিৎ মাত্র ২টি। উত্তরবঙ্গের এত অপরিসর অরণ্যে প্রতি ১৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের অরণ্য পিছু একটি করে এলফ্যান্ট করিডোর।

এই ১৪টি এলিফ্যান্ট করিডোরের মধ্যে ৮৬ শতাংশ করিডোর হস্তিযূথ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে। উত্তরবঙ্গের ৩৫.৭০ শতাংশ এলিফ্যান্ট করিডোর নষ্ট করে রেলগাড়ি যাতায়াত করছে। ১০০ শতাংশ করিডোরের মুখ আগলে কোন না কোন চাষ আবাদের কাজ  চলছে ( সর্বভারতীয় গড় ৭০%)। চা-বাগান, মানুষের বসতি, রেল লাইন, জাতীয় সড়ক প্রভৃতি এলিফ্যান্ট করিডোরের উপর অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দিয়েছে। উত্তরবঙ্গে হাতিদের স্বাভাবিক বাসস্থান-অরণ্য আজ বৃহৎ মাপের জেলখানা বা প্রাকৃতিক কুঠুরিতে পরিণত হয়েছে। হাতি গোষ্ঠীকে তরাই-ডুয়ার্স জঙ্গলে ঘেটোতে (ghetto)  বন্দী জীবন যাপন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে ঘেটোবন্দী জীবন হাতি মেনে নিচ্ছে না। মানুষ ও মানুষের প্রগতির সাথে হাতির সংঘর্ষে সারা ভারতবর্ষে প্রতি বছর ১০০ টি হাতি ‘শহীদ’ হচ্ছে। প্রায় ৪৫০ জন সাধারণ মানুষের জীবনে আকস্মিক যবণিকা নেমে আসছে। সারা দেশের তুলনায় উত্তরবঙ্গে সাধারণ মানুষের বাৎসরিক মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর প্রায় ৫০ জন মানুষ হাতির শুঁড়ের আছাড়ে বা পদপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করছে।

হাতির করিডোর রক্ষায় পদক্ষেপ সমূহ

ওয়াইল্ড লাইফ কনসারভেসন সোসাইটি ওফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বিজ্ঞানী বিদ্যা আত্রেয় হাতির করিডোর রক্ষার জন্য সর্ব্বোচ্চ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন। মাস কয়েক আগে সুপ্রীম কোর্ট নয়টি হাতি অধ্যুষিত রাজ্যকে ‘অতি জরুরি’ ভিত্তিতে ২৭ টি এলিফ্যান্ট করিডো্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যে পূনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছে। হাতির করিডোর পূনর্বাসনের জন্য ২০০৩ সালে ইন্টারন্যাশানাল ফান্ড ফর এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার এবং ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া যৌথ ভাবে ২৫.৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে ২০০৭ সালে কর্ণাটক সরকারের হাতে তুলে দেয়। রাজ্য বনদপ্তর, মিনিষ্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট ফরেস্ট এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ (MOEFCC), ওয়াইল্ড লাইফ অফ ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য সংস্থার চেষ্টায় মাত্র আটটি (৮টি) এলিফ্যান্ট করিডোরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গিয়েছে। সুরক্ষিত পথগুলি হাতিদের চলাচলের জন্য দ্রুত যোগ্য করে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে ।“রাইট অফ প্যাসেজ” গবেষক গোষ্ঠীর  মতে ১২টি হাতি অধ্যুষিত রাজ্যের অরণ্যবাসীদের প্রমান সাইজের হাতির পুতুল তৈরী করে “গজ-যাত্রা” নামক সচেতনতা মূলক পরিক্রমা বের করে মানুষ-হাতি সংঘর্ষের কারণগুলি প্রচার করা দরকার।

বনবাসী উচ্ছেদ ও হাতি

হাতিদের চলাচলের পথগুলি সংরক্ষণ খুব জরুরি। কিন্তু বনবাসী উচ্ছেদ করে সেই কাজে সফলতা লাভ আদৌ কি সম্ভব?  বনবাসীরা অরণ্যের স্বাভাবিক সন্তান এবং অভিভাবকও বটে। যারা বনের বৃক্ষরাজি, পশুপাখির সাথে পাশাপাশি বেঁচে থেকে  এসেছে আবহমান কাল থেকে। স্বাভাবিকভাবে বনকে রক্ষা করে নিজেরা বেঁচে আছে। সরকারী নির্দেশে এবং প্রগতি মরীচিকার চাপে পথভ্রষ্ট হয়ে তারা আজ বনের স্বতস্ফূর্ত রক্ষাকারী থাকতে পারছে না। সরকার এই ধরনের প্রাকৃতিক প্রহরীকে সরিয়ে যথেষ্ট বনরক্ষী নিয়োগ করতেও পারছে না। সরকার, বনরক্ষাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি ও সচেতন সাধারণ নাগরিকের (আমার মত) উচিৎ বনবাসীদের স্বাভাবিক বনরক্ষার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এলিফ্যান্ট করিডোর রক্ষার কোনও সমাধান খুঁজে বের করা। প্রচলিত প্রগতির ধারাকে লাগাম পরিয়ে কোনও বিকল্প ভাবনায় আমরা যৌথভাবে পৌঁছাতে না পারলে এলিফ্যান্ট করিডোর রক্ষার আর কোনও আশা নেই।

আমাদের এখনই উচিৎ হাতি গোষ্ঠিদের চলাচলের পথগুলি ফিরিয়ে দেওয়া। নইলে যে অরণ্য বৃক্ষরাজির মাথায় কিরণ ছড়িয়ে সূর্য উদিত হয় সেখানে বালির চিক্‌ চিক্‌ প্রতিফলনে সেই সূর্য অস্তমিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.