ধনীতম ০.১ শতাংশ-র সম্পত্তির আংশিক পুনর্বন্টন : কীভাবে সম্ভব এবং তা করা হলে কী কী হতে পারে?

না, সম্পত্তি পুনর্বন্টনের জন্য সচ্ছল মধ্যবিত্ত তো নয়ই, এমনকি ধনীদের (দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ধনীতর ১% ব্যক্তি, কিন্তু যারা অতিধনী বা ভীষণ-ধনী বা বেশ-ধনী নয়) সম্পত্তিতেও হাত দেওয়ার দরকারই নেই। শুধু অতিধনী, ভীষণ-ধনী ও বেশ-ধনীদের সম্পত্তির যথাক্রমে অর্ধেক, সিকিভাগ ও দশমাংশ আদায় করলেই দেশের নব্বই শতাংশ মানুষের জন্য নিঃশুল্ক পুষ্টি, পাকা বাসা, স্কুল শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুৎ, গণপরিবহন, এবং টেলিযোগাযোগ — এগুলি সম্ভব।

সর্বজনীন বিদ্যুৎ পরিষেবা: সাধারণ নির্বাচনে যে ইস্যুটা নিয়ে তেমন আলোচনা হচ্ছে না

প্রায় নব্বই শতাংশ নিম্নতর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারের গড় সর্বোচ্চ ব্যবহার্য বিদ্যুৎ ইউনিট নিঃশুল্ক; এবং সেই বিদ্যুৎ হতে হবে গ্রিড-এর তিন ফেজ-এর বা উচ্চমানের বিদ্যুৎ, ও লোডশেডিং বিহীন — এটাই হল সর্বজনীন বিদ্যুৎ পরিষেবা।

সংযোজিত নাগরিকত্ব বিধি (CAR 2024) : কিছু বিপজ্জনক শর্ত

এমনিতেই CAA 2019 এবং CAR 2024 দুটিই খুবই বিতর্কিত দুটি আইন, কারণ এই দুটিতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলা হচ্ছে; যা আমাদের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে আদৌ সংবিধানসম্মত কি না তা ভাবার মতো। এখনও বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন।

কিন্তু সেসব নৈতিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রেক্ষিত বাদ দিলেও, যাদের কথা ভেবে এই আইন ও বিধি বানানো, আদৌ তারা উপকৃত হবে কি না এই বিধির বল-এ; নাকি ভোটের মুখে তাদের শান্ত করার জন্য তাদের জন্য নতুন কোনও বিপদ হাজির করানো হল — সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রশ্নোত্তরে প্যালেস্তাইনের ওপর ইজরায়েলের যুদ্ধ (২০২৩) : আমরা কী করতে পারি ?

ক) আমরা প্যালেস্তাইন অবরোধ এবং দখল-এর ইতিহাস, প্যালেস্তাইনি মানুষদের গান গল্প উপন্যাস কবিতা সিনেমা ছবি পড়তে, দেখতে ও শুনতে পারি। প্রিয়জনদের সেগুলো উপহার দিতে পারি।

খ) আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে ইজরায়েলি রাষ্ট্রের যুদ্ধের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করতে পারি। প্যালেস্তাইনি স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে মতপ্রকাশ করতে পারি।

গ) সোস্যাল মিডিয়ায় ইজরায়েলি রাষ্ট্রের গণহত্যার বিরুদ্ধে সরব হতে পারি।

ঘ) ইজরায়েলি রাষ্ট্রের প্যালেস্তাইন যুদ্ধ ও দখলের বিরুদ্ধে মিটিং মিছিল বা অন্যান্য প্রতিবাদে সামিল হতে পারি।

ঙ) আমাদের এখানকার বেশ কিছু বেসরকারি কোম্পানি, যেমন টিসিএস, উইপ্রো, ইনফোসিস, টেক মাহিন্দ্রা, সান ফার্মা ইত্যাদির ইজরায়েলে বিনিয়োগ ও অফিস আছে। তাদের চিঠি লিখে বলতে পারি তারা যেন ইজরায়েলের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে।

চ) ভারত রাষ্ট্রের সঙ্গে ইজরায়েল রাষ্ট্রের নানা চুক্তি আছে। আমরা ভারত সরকারকে চিঠি দিয়ে বলতে পারি, সেই চুক্তিগুলি বাতিল করতে।

ছ) বেশ কিছু ইজরায়েলি কর্পোরেট ভারতে ব্যবসা করে। আমরা সেগুলোর পণ্য বর্জন করতে পারি।

জ) বেশ কিছু মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্পোরেট খোলাখুলি ইজরায়েল রাষ্ট্রের এই যুদ্ধকে সমর্থন করছে। আমরা সেই কর্পোরেটদের পণ্যগুলি বর্জন করতে পারি।

প্রশ্নোত্তরে প্যালেস্তাইনের ওপর ইজরায়েলের যুদ্ধ (২০২৩) : প্যালেস্তাইনের মুক্তি-সংগ্রাম কি মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক রাজনীতির বোড়ে হয়ে যায়নি ?

প্যালেস্তিনীয় মুক্তি-সংগ্রাম ইসলামিক রাজনীতির আভ্যন্তরীন বিষয় নয়, বরং তা ছাপিয়ে। তা একটি জাতিসত্ত্বার বিলীন হয়ে যাবার বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ, কষ্টকর এবং আত্মত্যাগে পরিপূর্ণ এক লড়াই। সেই কারণেই পৃথিবীর নানা দেশের বহু মানুষ, যারা প্যালেস্তিনীয় নয়, ইসলামিস্ট নয়, মুসলিম নয় — তারাও প্যালেস্তিনীয় মুক্তি-সংগ্রামের সংহতিতে রয়েছে। সারা পৃথিবীতে বহু মিছিল তারা করে চলেছে, যেগুলি শুধু ইজরায়েলের নৃশংস যুদ্ধ (২০২৩) বন্ধ করার দাবি তুলেই ক্ষান্ত থাকছে না, একইসাথে প্যালেস্তাইনকে ইজরায়েলের অবরোধমুক্ত করার দাবিও তুলছে।

প্রশ্নোত্তরে প্যালেস্তাইনের ওপর ইজরায়েলের যুদ্ধ (২০২৩) : প্যালেস্তাইনিরা কি জঙ্গী স্বাধীনতা সংগ্রাম চায়?

২০০৬ সালে প্যালেস্তাইনের স্বায়ত্বশাসন কর্তৃপক্ষের নির্বাচন হয়, তাতে সারা পৃথিবীকে অবাক করে বিরোধী হামাস বিপুলভাবে জিতে যায়। ভূতপূর্ব শাসক সংগঠন ফাতা দ্বিতীয় স্থান পায়। হামাস ও ফাতা-র মিলিজুলি ‘প্যালেস্তাইন কর্তৃপক্ষ’ তৈরির প্রয়াস ব্যর্থ হয় এবং গৃহযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ২০০৭ সালে গাজা ভূখণ্ডটির ক্ষমতা দখল করে নেয় হামাস। তারা ইজরায়েল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ভিত্তিক সমাধান বাতিল করে দেয় এবং ষাটের দশকে জঙ্গী প্যালেস্তাইনি স্বাধীনতা আন্দোলনের যে দাবি, জর্ডন নদী থেকে ভূমধ্যসাগর অবদি পুরো প্যালেস্তাইনের মুক্তিকে লক্ষ্য বলে ঘোষণা করে। শুরু হয় গাজা থেকে হামাসের নেতৃত্বে জঙ্গী তথা হিংসাত্মক স্বাধীনতা আন্দোলন।

প্রশ্নোত্তরে প্যালেস্তাইনের ওপর ইজরায়েলের যুদ্ধ (২০২৩) : যুদ্ধ শুরু হল কেন?

রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব সম্প্রতি বলেছেন, হামাসের হামলা আকাশ থেকে পড়েনি, তার কারণ আছে, তা হল প্যালেস্তিনীয়দের দম আটকানো ইজরায়েলি অবরোধ। আমাদের ভারতবাসীদেরও প্যালেস্তিনীয় মুক্তি সংগ্রামকে সামগ্রিকভাবে সমর্থন করা প্রয়োজন। ঔপনিবেশিক শাসনে দুশো বছর কাটানো এবং সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে তার থেকে মুক্তির ইতিহাস আছে আমাদের, ফলে তা বিস্মৃত না হলে আমাদের প্যালেস্তিনীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া স্বাভাবিক।

মণিপুরের মিডিয়া পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে জাতিদাঙ্গার দিনগুলিতে — বলল এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া-র রিপোর্ট

একজন সাংবাদিক প্রতিনিধিদলকে বলেন, “প্রথমদিকে ইম্ফলের বয়ানগুলি ছিল এরকম — দাঙ্গাটা শুরু করেছে আত্মসমর্পণ করা কুকি জঙ্গীরা যাদের সঙ্গে কেন্দ্র সরকার শান্তি-চুক্তি করেছে। তারপর তারা বলল, দাঙ্গার জন্য দায়ী মায়ানমার সীমান্ত জুড়ে কুকি এলাকায় ড্রাগ কার্টেলগুলি এবং আফিম-চাষিরা। তারপর হঠাৎ তারা বলতে শুরু করল, হিংসার জন্য দায়ী মায়ানমার থেকে বন্দুক নিয়ে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যারা বনাঞ্চলগুলিতে বাসা বানাতে শুরু করেছে। তারপর তারা এর একটা নাম দিল — নার্কো-টেররিজম।”

মণিপুরে দুর্ভাগ্যজনক জাতিদাঙ্গা ও তার প্রেক্ষাপট : নথিভিত্তিক কালপঞ্জী (৩১ আগস্ট ২০১৫ – ৪ মে ২০২৩)

উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য জায়গার মতোই মণিপুর রাজ্য-র খবর যেহেতু নিয়মিত এখানকার সংবাদমাধ্যমে বা জাতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয় না, বা কেন্দ্রীয় ক্ষমতার রাজনীতির তরজার অঙ্গ হিসেবে প্রকাশিত হয়, তাই মণিপুরের চলমান জাতিহিংসাকে মিডিয়ায় দেখা এবং দেখানো হচ্ছে “চীন বনাম ভারত”, “বিজেপি বনাম কংগ্রেস”, “হিন্দু বনাম খ্রীষ্টান” ইত্যাদি দ্বৈত দিয়ে। এগুলি সবই মাটির ঘটনাকে এরোপ্লেন থেকে দেখে বর্ণনা করলে যেমন লাগে, তেমনই হাস্যকর। তবে কি মণিপুরের এই জাতিহিংসায় কোনও দ্বৈত নেই? সম্ভবতঃ আছে।

যোশীমঠের বিপর্যয় : বড়ো প্রকল্পগুলির লগ্নীতেই পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নীতির দাবি

এইসব বিপর্যয় বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় কোন নির্বোধের মতো উন্নয়নের মডেল আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা দেশীয় সংস্থা আর সরকারের প্রত্যক্ষ আর্থিক মদতে। ভবিষ্যতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানোর নাম করে দেশি বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলো এই ধরনের বিপর্যয় ভাঙিয়েও মুনাফা না লোটে।